সিঙ্গাপুর ফিউচার মার্কেটে গত মঙ্গলবার আকরিক লোহার দাম বেড়েছে। শীর্ষ ব্যবহারকারী চীনে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
চীনের পার্লামেন্টে বার্ষিক সভা শেষ হওয়ায় দেশটির উত্তরাঞ্চলে ইস্পাত উৎপাদন পুনরায় শুরু হতে পারে। ফলে বাড়তে পারে ইস্পাত উৎপাদনের অন্যতম উপাদান আকরিক লোহার দাম।
সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে এপ্রিলে সরবরাহের চুক্তিতে আকরিক লোহার দাম দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। টনপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০০ ডলার ৭৫ সেন্টে। বছরের শুরুতে আকরিক লোহার দাম সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল। গত ১৪ জানুয়ারি টনপ্রতি মূল্য গিয়ে ঠেকেছিল ৯৮ ডলার ৮৫ সেন্ট।
চীনের ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) সর্বাধিক লেনদেন হওয়া মে মাসের সরবরাহের চুক্তিতে আকরিক লোহার টনপ্রতি দাম ৭৭৪ দশমিক ৫ ইউয়ানে (১০৬ ডলার ৯৫ সেন্ট) স্থির হয়েছে।
চীনের ক্যাওস টার্নারি ফিউচারের বিশ্লেষকরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্চে হট মেটাল বা গরম ধাতুর উৎপাদন বিপরীতমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ চীনের উত্তরাঞ্চলের কিছু ইস্পাত প্রস্তুতকারক সম্ভবত পার্লামেন্টের দ্বিতীয় অধিবেশনের পর উৎপাদন বাড়াবে। আকরিক লোহার চাহিদা পরিমাপের জন্য সাধারণত গরম ধাতু উৎপাদন ব্যবহার করা হয়।
এদিকে দুর্বল ভোক্তা মনোভাবের কারণে সোমবার চীনে ইস্পাত তৈরির অন্য উপাদানগুলোর দাম কমেছে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উত্তেজনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ চাহিদার সম্ভাবনাকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে। ফলে ইস্পাত ও সম্পর্কিত অন্য পণ্যের চাহিদা কমে যেতে পারে।
ডিসিইতে ইস্পাত তৈরির অন্যান্য উপাদানের মূল্য নিম্নমুখী প্রবণতা ধরে রেখেছে। কোকিং কয়লা ও কোকের মূল্য যথাক্রমে ১ দশমিক ৬৭ ও ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে।
সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে ইস্পাতের বেঞ্চমার্কগুলোও মঙ্গলবার। রেবারের দাম দশমিক ৮৩ শতাংশ, হট রোলড কয়লার দশমিক ৪২ ও ওয়্যার রডের দাম দশমিক ৯৬ শতাংশ কমেছে। তবে স্টেইনলেস স্টিলের দাম দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।